দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের স্বার্থে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের নিলামে শর্তসাপেক্ষে ১০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়ের ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে স্পেকট্রামের দাম নির্ধারণে ডলারভিত্তিক মূল্যায়নকে বাস্তবসম্মত বলা হয়েছে।
সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব টেলিযোগাযোগ অপারেটরদের বিনিয়োগকারীদের পাঠানো এক চিঠিতে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন। এর আগে, গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের মূল বিনিয়োগকারীরা চিঠির মাধ্যমে সরকারের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ডিভাইস প্রবৃদ্ধির নিম্নহার বিবেচনায় সরকার ৫-১০ শতাংশ মূল্যছাড়ের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তবে এটি নির্ভর করবে অপারেটরদের অবকাঠামো উন্নয়ন ও মানসম্মত সেবার প্রতিশ্রুতির ওপর।
গত তিন বছরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার ৪০% অবমূল্যায়ন হওয়ায় স্পেকট্রামের বর্তমান মূল্য যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া, বিনিয়োগকারীদের মুনাফা ডলারে রেমিট্যান্স করার বাস্তবতায় ডলারভিত্তিক মূল্যায়নকে কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ফোরজি ও ফাইভজির বিস্তারে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ফোরজি হ্যান্ডসেটের প্রায় ৫০% এই ব্যান্ড সমর্থন করে। সরকার বাজারে নতুন হ্যান্ডসেট আনতে হলে ৭০০ ব্যান্ড সমর্থিত হওয়া বাধ্যতামূলক করেছে, যা ভবিষ্যতে এই ব্যান্ডের ব্যবহার বাড়াবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডের কম ব্যবহারের কারণে গ্রাহকরা ধীরগতির ইন্টারনেট ও কলড্রপ সমস্যায় ভুগছেন। ইন্টারনেট প্যাকেজের উচ্চমূল্য এবং স্বল্প মেয়াদ নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে।
সরকার অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা করে স্পেকট্রামের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত ও ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে উদ্যোগ নেবে বলে জানান ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।